পাকুন্দিয়ায় বিএনপির ৭৯ নেতাকর্মীর নামে বিষ্ফোরক আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ৮

0

আছাদুজ্জামান খন্দকারঃ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ককটেল বোমা বিষ্ফোরণ ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিএনপির ৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে রবিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর আগে শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বাহাদিয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে জামে মসজিদের সামনে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা সড়কের ওপর বিষ্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে জানান ওসি। এতে ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ টিয়ারসেল ও শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ৫ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। এছাড়াও এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিষ্ফোরিত ককটেল বোমা ও দুটি বিষ্ফোরিত ককটেল বোমার টিনের কৌটার অংশ, নয়টি ইটের টুকরা, তিনটি বাঁশের লাঠি, পাঁচটি লাল কসটেপের টুকরাসহ নাশকতার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্চাম উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শনিবার রাতেই পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রব্বানী বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক কামাল উদ্দিন ও আতিকুর রহমান মাসুদসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭০-৭৫জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিষ্ফোরণ দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপরেই অভিযান চালিয়া আরও তিনজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নেতাকর্মীরা হলেন, পাকুন্দিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আনোয়ারখালী গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০), পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও টান লক্ষীয়া গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে শামসুদ্দিন (৬০), বিএনপির কর্মী উপজেলার চরপলাশ গ্রামের বাসিন্দা সুলতান উদ্দিন ফকির (৫৮), বাহাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এরশাদ মিয়া (৩৫), একই গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দুজ্জামান পাঠান (৫০), হাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. পলাশ মিয়া (২৯), কুমারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কবির (৩৫) ও একই গ্রামের বাসিন্দা কিরণ মিয়া (৪৪)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে উপজেলার বাহাদিয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে জামে মসজিদের সামনে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কের ওপর একটি সমাবেশ করছিল স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা থেকে সরে গিয়ে অন্য জায়গায় মিটিং করার কথা বলেন বিএনপির নেতাকর্মীদের। এতে উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিএনপির নেতাকর্মীরা ককটেল বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশও পাল্টা জবাব হিসেবে দুই রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে দুইজন এসআইসহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সারোয়ার জাহান বলেন, এ ঘটনায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় বিষ্ফোরণ দ্রব্য আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৭৫জনকে আসামী করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে ও পরে রাতে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে রবিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Share.