ভৈরবে শিক্ষার্থী অপহরনের ৬ দিন পর উদ্ধার, অপহরনকারী গ্রেফতার

0

প্রতিনিধি ভৈরবঃ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোকারম ( ৯) কে অপহরনের ৬ দিন পর নারায়নগঞ্জ থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরনকারী শিশুর খালু বাবু মিয়া ও তার প্রথম স্ত্রী নুরুন্নাহার (অনু) কে গ্রেফতার করা হয় । তবে শিশুটিকে অপহরন করে অপহরনকারী প্রথমে ৬০ হাজার পরে ১লাখ টাকা দাবী করে শিশুটির পরিবারের কাছে । এরই মাঝে বিকাশের মাধ্যমে অপহরনকারীকে ৫ হাজার টাকা পাঠানো হয় । বাকি টাকার জন্য একাধিকবার মোবাইলে ফোন দিতে থাকে ।

শনিবার (৪ জুন) দুপুরে ভৈরব থানার ওসি গোলাম মোস্তফা সংবাদ সম্মেলনে জানান, শিশুটি অপহরনের ঘটনায় তার ভাই রুবেল মিয়া বাদী হয়ে ১ জুন রাতে ভৈরব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে । মামলা দায়েরের পর আমরা একটি টিম গঠন করে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পেরে প্রথমে ট্ঙ্গাাইলের ধনবাড়িতে যায় । সেখান থেকে তথ্য নিয়ে পরে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার একটি বিকাশের দোকোন থেকে নারায়নগঞ্জ ডিবি পুলিশের সহায়তায় প্রথমে বাবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয় । পরে তার স্বীকারোক্তিতে একই থানার মদন থেকে তার প্রথম স্ত্রী নুরুন্নাহার ওরফে অনুকে গ্রেফতার করে অনুর হেফাজতে থাকা অপহৃত শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করি । গ্রেফতারকৃত বাবু মিয়া মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের খিদির পুর গ্রামের মালেক মিয়ার পুত্র । তবে সে গ্রামে থাকেনা সে ভাসমান অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে এবং সে একাধিক বিয়ে করে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছে ।

উল্লেখ্য, গত ৩ মাস আগে অপহরনকারী বাবু মিয়া ভিকটিমের খালাকে বিয়ে করে । বিয়ের পর গত ২৮ মে বাবু মিয়া তার ভায়রা ভাইয়ের বাড়ি ভৈরবের শ্রী-নগরে কামারকান্দা গ্রামে বেড়াতে আসেন । বাড়িতে এসে তার ভায়রা ভাইয়ের পুত্র ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৯ বছরের শিশু মোকারমকে স্থানীয় বাজারে ঘুরা-ফেরার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় । পরে কৌশলে শিশুটিকে ৪/৫ জনের সহায়তায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রেখে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৯৪৫-০৭৩২৯৩ থেকে শিশুর বড় ভাই রুবেল মিয়ার মোবাইল ০১৮৫৬-২৪৩৮৬৮ নম্বরে মুক্তিপণ বাবদ ৬০ হাজার টাকা দাবী করে । মুক্তিপণ না পেলে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ ঘুম করার হুমকি দেয় ।

Share.