দাতার জমি হাতিয়ে নিতে ৩২ মামলা দিয়ে হয়রানি

0

আছাদুজ্জামান খন্দকারঃ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নূরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি পাঁচ শতাংশ জমি জোরপূর্বক হাতিয়ে নিতে জমি দাতার বিরুদ্ধে ৩২টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে জমি দাতার পরিবারের মধ্যে আতংক ও হতাশা বিরাজ করছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ২৮ নভেম্বর নিরুপায় জিল্লুর রহমান তিনজনকে অভিযুক্ত করে পাকুন্দিায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো এর কোন প্রতিকার পাননি। অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার চরফরাদী গ্রামের মোঃ নূরুল ইসলাম, তাঁর ছেলে বাবু মিয়া ও স্ত্রী ঝরণা খাতুন।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরফরাদী গ্রামের মৃত মতালেবের ছেলে মোঃ নুরুল ইসলামের বসত বাড়িতে প্রবেশের কোনো রাস্তা ছিল না। এতে নূরুল ইসলাম ও তার পরিবার চরম বিপাকে ছিল। বিষয়টি নিয়ে গত দুই বছর আগে নূরুল ইসলাম এলাকার মাতব্বরদের নিয়ে একটি দরবারের আয়োজন করেন। পরে মাতব্বররা পাশের বাড়ির মৃত রোছমত আলীর ছেলে কৃষক জিল্লুর রহমানের পাঁচ শতাংশ জমির মধ্য দিয়ে ওই রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেন। বিনিময়ে জিল্লুর রহমান কে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। কিন্তু একবছর যেতে না যেতেই ওই রাস্তাসহ পুরো পাঁচ শতাংশ জমিই তার নিজের বলে দাবি করে। এমনকি জিল্লুর রহমানকে নানা ধরণের হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি জমিটুকু হাতিয়ে নিতে জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে ৩২ টি মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ নভেম্বর রবিবার সকাল ১০ টার দিকে নূরুল ইসলাম, ছেলে বাবুমিয়া ও তাঁর স্ত্রী ঝরণা খাতুন দা, কুড়াল ও ছুরি নিয়ে জিল্লুর রহমানের জমিতে গিয়ে ওই রাস্তার পাশ থেকে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ কাটতে শুরু করে। খবর পেয়ে জিল্লুর রহমান বাধা দিতে গেলে তারা জিল্লুর রহমানের উপর হামলা চালায়। নিরুপায় জিল্লুর রহমান এসময় দৌড়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করে। পরে হামলাকারিরা ২০-২৫ টি গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ নিয়ে এলাকায় সালিশ-দরবার হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় ২৮ নভেম্বর জিল্লুর রহমান তিনজনকে অভিযুক্ত করে পাকুন্দিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমান বলেন, নূরুল ইসলাম একজন বিশ্বাসঘাতক এবং প্রতারক। তার বাড়িতে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। গ্রামীণ মাতাব্বরদের অনুরোধে মানবিক বিষয় চিন্তা করে আমি আমার জমির মধ্যদিয়ে তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেই। বিনিময়ে একটি টাকাও নেয়নি। অথচ এই জমি এখন তার দাবি করে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে ৩২টি মামলা করে আমায় হয়রানি করেছে। এ বিষয়ে গ্রামে একাধিকবার দরবার হলেও তিনি জমির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। আমি এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখনো এর কোনো সমাধান পাই নি।

এ ব্যাপারে নূরুল ইসলাম বলেন, জমি দখলে নেয়ার বিষয়টি সত্য নয়। উল্টো জিল্লুর রহমানই দরবারে এ জমির সঠিক কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি।

পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক আমিনুল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে থানা পুলিশের কিছু করার নেই। এটি আদালতের বিষয়। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে আপোষ মিমাংসা করার জন্য জিল্লুর রহমানকে বলে দিয়েছি।

Share.

Leave A Reply