পাকুন্দিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

0

আছাদুজ্জামান খন্দকারঃ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নিজ ঘর থেকে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরতেরটেকিয়া গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ওই গৃহবধূর নাম লিমা আক্তার (২২)। তিনি ওই গ্রামের মুদি দোকানি জাহাঙীর আলমের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের বাবার বাড়ির লোকজনের দাবি, লিমা খুব ভালো মেয়ে ছিল। সে কিছুতেই আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে তার স্বামী।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরতেরটেকিয়া গ্রামের মো.তাহের উদ্দিনের ছেলে জাহাঙীর আলমের সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে একই উপজেলার মঙলবাড়িয়া গ্রামের মৃত রুহুল আমীনের মেয়ে লিমা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ব্যবসা করার জন্য দরিদ্র বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে লিমাকে চাপ দিয়ে আসছিল জাহাঙীর। পরিবারের সুখের কথা চিন্তা করে বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে ৬০হাজার টাকা নিয়ে স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছেন লিমা। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে বাবার বাড়ি থেকে আর কোনো টাকা এনে দিতে পারবে না বলে জানালে লিমার ওপর নির্যাতন শুরু করে জাহাঙীর। এনিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বাগবিত-া হতো।

নিহতের বড় ভাই রিকশা চালক আল-আমিন বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানা বিষয় নিয়ে বোন লিমাকে নির্যাতন করছিল জামাই জাহাঙীর। বোনের সুখের কথা চিন্তা করে জাহাঙীরের ব্যবসার জন্য কয়েক দফায় ৬০হাজার টাকা দিয়েছি। ৮-১০দিন আগেও আমি ১০হাজার টাকা দিয়েছি। এতেও তার মন ভরে নাই। এসবের জের ধরেই লিমাকে হত্যা করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে লাশ ঘরের ধর্ণায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জাহাঙীরের বাবা মো.তাহের উদ্দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বরাবরের মতোই রাতের খাবার খেয়ে তারা দুজন একই ঘরে ঘুমিয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় ডাকাডাকি করে আমি বাইরে চলে যাই। পরে বড় ছেলে আলমগীরের স্ত্রী তাদের ডাকাডাকি করে। সাড়া না পাওয়ায় ঘরের পিছনের জানালায় ধাক্কা দিয়ে খুলে দেখতে পায় লিমার লাশ ঘরের ধর্ণার সাথে ঝুলে আছে। পরে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে থানায় খবর দেয়।

পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাহিদ হাসান সুমন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর কারণটি সঠিকভাবে নির্ণয় করতে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

Share.

Leave A Reply