স্টাফ রিপোর্টারঃ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ও উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাতের স্থান শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। এবারের জামাতও দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ জামাতে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রের এক অনন্য দৃশ্যে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জামাতে প্রায় ৬ লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা ঈদের প্রধান জামাতে শরিক হতে শোলাকিয়ায় সমবেত হন। ঈদের তাকবির ও খুতবার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ মাঠ।
জামাতে ইমামতি করেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। তিনি ঈদের খুতবা ও নামাজ পরিচালনা করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঈদ জামাতে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম এমপি, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের মাজহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনসহ জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। তাঁরা মাঠে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো তদারকি করেন।
ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সেনাবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পুরো এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে ছিল কড়া নজরদারি, পাশাপাশি জনস্রোত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে মুসল্লিরা যেন নিরাপদে ও সহী-সালামতে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। পুরো ঈদ জামাত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ঈদ জামাত শেষে প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহ সংস্কার করার জন্য সরকার প্রধানের সাথে কথা বলে প্রকল্প নেওয়া হবে। যেন মাঠটি আরও বড় ও সৌন্দর্য মন্ডিত হয়।
শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জনসমাবেশ ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য উদাহরণ। প্রতি বছরই এই জামাতকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। এবারের ১৯৯তম আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো।
উল্লেখ্য, প্রতিবারের মতো এবারও নামাজ শুরুর আগে বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। গুলি ছুড়েন পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন। নামাজের ১০ মিনিট আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে তিনটি ও এক মিনিট আগে দু’টি গুলি ছোড়া হয়।