স্টাফ রিপোর্টারঃ
জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জে চালু হয়েছে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল বিতরণ ব্যবস্থা। কিন্তু এই ব্যবস্থার মধ্যেও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় লাইনে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষের নিয়ম উপেক্ষা করে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে তেল নিতে গিয়ে এক কারারক্ষীকে হাতেনাতে আটক করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ফিলিং স্টেশনজুড়ে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ফুয়েল কার্ড প্রদর্শনের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে তেল দেওয়া হচ্ছিল।
জানা যায়, শিহাব আহমেদ নামে ওই কারারক্ষী কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে কর্মরত। তিনি একটি নম্বরবিহীন কালো মোটরসাইকেল নিয়ে হঠাৎ করে লাইনের বাইরে থেকে এসে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি দায়িত্বশীল সরকারি কর্মচারী হয়েও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও কামরুল হাসান মারুফ। তিনি ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিতরণ কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করছিলেন। বিষয়টি তার নজরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মোটরসাইকেলটি থামানোর নির্দেশ দেন। পরে তিনি কারারক্ষী শিহাব আহমেদের কাছে মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু তিনি কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এতে ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করা হয়।
ইউএনও কামরুল হাসান মারুফ বলেন, ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল বিতরণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কেউ নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক কারারক্ষীকে জেল সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার দিদারুল আলম বলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।