চুনা পাথর কারখানায় অবৈধ গ্যাসের সংযোগ, ভয়াবহ লিকেজে গ্যাসের অপচয়

0
স্টাফ রিপোর্টারঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের মূল পাইপলাইনে লিকেজ হয়ে প্রায় এক মাস ধরে অনবরত গ্যাস বের হচ্ছে। একাধিকবার মেরামতের চেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে লিকেজ বন্ধ করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কারিগররা। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ এবং ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র কাজীরচর এলাকায় গড়ে ওঠা একটি চুনা পাথরের কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিতে গিয়ে তিতাসের মূল পাইপলাইনে ছিদ্র সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের পর সম্প্রতি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পাইপলাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে বড় আকারে গ্যাস বের হতে শুরু করে। এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচারের চেষ্টা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর খেয়াঘাট সংলগ্ন আড়িয়ালখাঁ নদীর তীরে তিতাস গ্যাসের ৪ ইঞ্চি ব্যাসের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দেয়। প্রথমদিকে নদীর পানির নিচে ছোট ছোট বুদবুদ দেখা গেলেও গত এক সপ্তাহ ধরে বড় আকারে গ্যাস বের হতে থাকে। এতে পুরো এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে বিষয়টি কেউ বুঝতে না পারলেও পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মূল পাইপলাইন থেকেই গ্যাস বের হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, কাজীরচর এলাকায় নতুন গড়ে ওঠা একটি চুনা পাথরের কারখানাসহ কয়েকটি স্থাপনায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই অবৈধ সংযোগের কারণেই পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চুনা কারখানার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাষ্ট্রীয় গ্যাস পাচারের অপচেষ্টা চালাচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির উদ্দিন বলেন, এখানে চুনা পাথরের ফ্যাক্টরিতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সংযোগ নেওয়ার পর বিষয়টি তেমন বোঝা যায়নি। কিন্তু নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ার পর গ্যাস বের হওয়ার দৃশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এখন পুরো এলাকায় গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা আতঙ্কে আছি। সাধারণ মানুষ বিষয়টি না বুঝে এখানে এসে প্রায়ই বিড়িতে আগুন ধরাচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই অবৈধ সংযোগের পেছনে গ্যাস কর্তৃপক্ষেরও কেউ জড়িত না থাকলে এমন কাজ করার সাহস পেত না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক মিয়া বলেন, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও এই বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল না। কিছুদিন আগে রাতের আঁধারে মূল পাইপলাইনে ছিদ্র করে অবৈধভাবে চুনা পাথরের কারখানায় গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এখন নদীর পানি বাড়ায় সেই ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। এতে প্রতিদিন দেশের মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। আগে এখানে কোনো চুনা কারখানা ছিল না। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের এক ব্যক্তি স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে কারখানাটি স্থাপন করেছেন।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ বিভাগের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. শামীম হোসেন বলেন, লিকেজ হওয়া ৪ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপটি তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের সঞ্চালন লাইন। এটি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা হয়ে কিশোরগঞ্জে প্রবেশ করেছে। এই মূল লাইন থেকে কোনো একসময় অবৈধভাবে একটি চুনা কারখানায় সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অবৈধ সংযোগের কারণেই পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারিগরি দল ঘটনাস্থলে এসছে এবং মেরামতের কাজ চলছে। আশা করছি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চুনা পাথরের কারখানার মালিকপক্ষ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
Share.