স্টাফ রিপোর্টারঃ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও পেছানো হয়েছে। সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী ১৯ অক্টোবর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন কিশোরগঞ্জ সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সুপ্রিয়া রহমান।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদের নামাজের প্রস্তুতির সময় মুফতি মোহাম্মদ আলী মসজিদের কাছে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ সময় চাপাতি ও কুড়ালের আঘাতে পুলিশের দুই সদস্য জহিরুল ইসলাম ও আনসারুল হক নিহত হন। পরে জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় জঙ্গি আবির রহমান।
এ ঘটনায় ২৪ জনকে আসামি করা হলেও বিভিন্ন সময়ে বন্দুকযুদ্ধে ১৯ জন নিহত হওয়ায় ২০১৮ সালে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। মামলায় ১০২ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। দীর্ঘ ১০ বছরেও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়ায় হতাশ নিহতদের স্বজনরা। পাঁচ আসামির মধ্যে দুজন বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। জঙ্গি হামলার আসামিরা হলেন, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধি, মিজানুর রহমানর ওরফে বড় মিজান, সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, জাহেদুল হক ওরফে তানিম ও আনোয়ার হোসেন। এর মধ্যে বড় মিজান মে মাসে ও আনোয়ার হোসেন জুলাই মাসে হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেছেন, সাক্ষীরা উপস্থিত না থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। তাই আদালত আগামী ১৯ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আসামীদেরও আদালতে হাজির করা হয়নি। আশা করছি, এই বছরের মধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করে সর্বোচ্ছ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।