স্টাফ রিপোর্টারঃ
কিশোরগঞ্জ জেলায় হামের সংক্রমণ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত হাম ও হাম-সন্দেহে অন্তত ২৪৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভর্তি রোগীদের মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে আরও নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিৎ শর্মা জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৬টি, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫টি এবং জেলার ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫টি করে মোট ১০১টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলায় হামের টিকার কোনো সংকট নেই। তবে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় গুরুতর রোগীদের ময়মনসিংহ বা ঢাকায় স্থানান্তর করতে হচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২০ এপ্রিল সারাদেশের সঙ্গে কিশোরগঞ্জেও বিশেষ হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের পাশাপাশি পূর্বে টিকা নেওয়া শিশুরাও পুনরায় টিকা নিতে পারবে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পুনরায় টিকা গ্রহণে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।